বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন সেবা

আপনার স্বাস্থ্য দীপান্বিতা সূত্রধর || 31 January 2018

প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা যেকোন রোগী টেলিমেডিসিন উদ্যোক্তার কাছে গিয়ে সহজেই কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাছের মেডিক্যাল কলেজ বা অন্য শহরের এমবিবিএস এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারে।


কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের অনেক মানুষ, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারত না। যেখানে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাই দুর্লভ ছিল, সেখানে কোন জটিল রোগে আক্রান্ত হলে অনেক সময় হাল ছেড়ে দিত অসুস্থ পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারের সাথে মানুষের জীবনযাপন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটেছে বাংলাদেশে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনেকটাই সহজলভ্য এখন। এর সাথে নতুন প্রযুক্তির প্রসারের জন্য অনেক স্বাস্থ্যসেবার অনেক নতুন ব্যবস্থা এসেছে দেশে এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারও হচ্ছে। টেলিমেডিসিন তার মধ্যে নতুন সংযোজন- এর সাহায্যে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ইন্টারনেটের সাহায্যে সেখান থেকে শহরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ নিতে পারে। তাই টেলিমেডিসিনকে বাংলায় ‘দূর চিকিৎসা’ বলা হয়ে থাকে।

যে কোন রোগী তার এলাকার টেলিমেডিসিন উদ্যোক্তার কাছে গিয়ে সহজেই কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাছের মেডিক্যাল কলেজ বা অন্য শহরের এমবিবিএস এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারে।

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা দূরবর্তী অসহায় রোগীদের জন্য একসময় যা ছিল কল্পনাতীত আজ তাই সম্ভব হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে। সারা দেশে বিভিন্ন ধাপে উন্নত টেলিমেডিসিন সেবা দেয়ার চেষ্টা করে চলছে সরকার। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিয়ভাস্কুলার ডিজিসেস, সাতক্ষীরা, নীলফামারী ও গোপালগঞ্জ এই তিনটি জেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং বেশ কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ সারা দেশে ৯০টিরও বেশি টেলিমেডিসিন সেবাকেন্দ্র চালু রয়েছে। এইসব হাসপাতালে রোগীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারবে এবং পরামর্শ নিতে পারবে। টেলিমেডিসিন সেবাকে আরও উন্নত করতে দেশের জেলা, উপজেলা স্তরের হাসপাতালে ও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় ওয়েব ক্যামেরা, ইন্টারনেটের সুব্যবস্থা করছে সরকার। এছাড়াও ভিডিও কল ও স্কাইপের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়ার অবিরাম চেষ্টা করবে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ।

শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয় নয় সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স ও টেকনোলজি বিভাগের অধীনে এবং এ২আই (অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন) এর সহযোগিতায় ‘টেলিমেডিসিন কার্যক্রম’ শুরু করেছে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য মানুষের কাছে টেলিমেডিসিন সেবাকে সহজেই পৌঁছে দেয়া। এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে সারা দেশব্যাপী মোট ২৭ টি টেলিমেডিসিন সেবা কেন্দ্র রয়েছে। এইসব কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে প্রায় বিকাল ৫টা পর্যন্ত যেকোনো সময় রোগীরা যেতে পারে এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারে। প্রত্যেক টেলিমেডিসিন সেন্টারে একজন করে বিশেষ প্রতিনিধি থাকেন যিনি রোগীর নাম, বয়স নিবন্ধন করে স্কাইপের মাধ্যমে ডাক্তারের সাথে কথা বলিয়ে দেন। এরপর সেই অনুযায়ী রোগীকে প্রেসক্রিপশনে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরামর্শ প্রিন্ট করে রোগীকে দিয়ে দেয়া হয়।

টেলিমেডিসিন সেবা শুরু হওয়ার কারণে সব শ্রেণীর মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা এখন অনেকটাই হাতের নাগালে । আর আমাদের দেশে প্রায়শই ফার্মেসিতে বসে থাকা ওষুধ বিক্রেতা নিজেদের ডাক্তার বলে এবং ব্যবসায় লাভবান হওয়ার জন্য  অনেক সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টি-বায়োটিক সহ অনেক অপ্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে থাকে। টেলিমেডিসিন সেবারর প্রসারের জন্য এইসব ঘটনা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে এবং মানুষ ওষুধ গ্রহণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিষয়ক সব কিছু নিয়ে আরও সচেতন হয়েছে।

চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়নে টেলিমেডিসিন নিয়ে বাংলাদেশে কাজ শুরু হয় ২০১১ সাল থেকে আর ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এই চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়। প্রায় দুই বছর মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টেলিমেডিসিন চিকিৎসা কার্যক্রমকে অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশের এই টেলিমেডিসিন চিকিৎসা কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্যা ইনফরমেশন সোসাইটি ২০১৭’ এ ই-স্বাস্থ্য ক্যাটেগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের এই টেলি মেডিসিন চিকিৎসা ব্যবস্থা।  


Telemedicine in Bangladesh

Health Dipanwita Sutradhar on 31 January 2018

Any patient living in remote areas may go to telemedicine entrepreneurs and easily get medical advice from MBBS and specialist doctors through a computer or mobile phone.


A few years ago, many people of Bangladesh, especially people of remote areas, could not afford proper healthcare. People of rural areas were not very conscious about basic health care. But with the expansion of science and technology, healthcare system of Bangladesh is emerging day by day.

Primary health care is now more accessible to the people of Bangladesh. There are so many IT-enabled systems dedicated to healthcare systems introduced in the country and they are being used appropriately and efficaciously.

Telemedicine is a new concept in Bangladesh. Any patient living in remote villages can go to telemedicine entrepreneurs in their area and easily get medical advice from MBBS and specialist doctors of the nearest medical colleges or other cities through the computer or mobile phone.

For the patients from remote areas, it was inconceivable to afford specialist doctors or to get emergency medical service. But all the improvement is possible for the cooperation of Health and Family Welfare Ministry of Bangladesh. The government is trying to provide better-quality telemedicine services in different phases across the country.

There are more than 90 telemedicine service centers in the country including Dhaka Medical College, Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University and National Institute of Cardiovascular Diseases; District Health Complex (Satkhira, Nilphamari, and Gopalganj) and several Sub-district Health Complexes.

To improve the telemedicine service our government is trying to offer an adequate amount of web cameras and other necessary equipment to the hospitals in the country's district, sub-district level hospitals and medical colleges. Expert doctors from different departments will also give their countless effort to deliver medical service through video calls and Skype.

Not only is the Health and Family Welfare Ministry recently, Dhaka University has started 'Telemedicine Program' associated with a2i (Access to Information) program under the help of the Department of Biomedical Physics and Technology.

The purpose of this project is to make telemedicine service easy for the people and it is approved by Bangladesh Health Ministry. There are total 27 telemedicine service centers across the country. In these centers, patients can visit anytime from 9 am to 5 pm, and can consult with an experienced doctor. Each telemedicine center has a special representative who registers the patient's name, age and speaks to the doctor through Skype. Therefore, according to the prescription, the patient is given advice and printout of prescription which contains the names of necessary medicine.

In our country, often pharmacy sellers are called themselves doctors and sometimes they suggest unnecessary medicines, such as anti-biotic to the less educated patients to earn more money illegally. Yet, this kind of occurrences is coming down because of broadening telemedicine services and nowadays people are more aware of health issues and taking medicines.

The trend of telemedicine in Bangladesh started in 2011. After experiments in a different level of the country on different medical treatment at the field level; the Ministry of Health approved the treatment of telemedicine after nearly two years.

This telemedicine treatment program of Bangladesh has been highly admired in the international arena. Recently, the telemedicine treatment system of Bangladesh has been becoming the champion in the e-health category at the World Summit on the Information Society which was held in Geneva, Switzerland.