মায়া আপা'র প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা আইভি হক রাসেল এর সাথে কথোপকথন

চা চক্র নাঈমা জামান || 17 January 2018

জনসাধারণকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যে মায়া আপা গঠিত হয়েছিল যার অভাবে দেশের বড় এক জনগোষ্ঠী অনেকটাই অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছিল ।


বাংলাদেশ ডিজিটালকরণের যুগে, মায়া আপা অবশ্যই সেইসব অনন্য উদ্যোগ সমূহের মধ্যে একটি, যা অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নজর কেড়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাকের সহযোগিতায় মায়া আপা বিনামূল্যে মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ পরিষেবা প্রদানের জন্য একটি ব্যবহার উপযোগী প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা চালু করেছে।

সম্প্রতি, মায়া আপা'র উদ্যোগ, গুগল আয়োজিত ‘গুগল এক্সেলেটর লঞ্চপ্যাড’ এ অংশগ্রহণ করে সকলের নজরে এসেছে। ৬ মাস দীর্ঘ এই কর্মসূচীতে সারা বিশ্ব থেকে নতুন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো গুগলের বিশেষজ্ঞদের সাথে কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবে  এবং বাংলাদেশ থেকে মায়া আপাই সর্বপ্রথম এই মর্যাদাপূর্ণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবে।

যখনই আমরা কোন বিশেষ ব্যবসা বা সফল কোন প্রতিষ্ঠানের কথা শুনি, তখনই স্বাভাবিক ভাবে আমাদের জানতে ইচ্ছা করে, এই সাফল্যের পিছনে কার কার অবদান রয়েছে। মায়া আপা'র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা আইভি হক রাসেলের সাথে কথা বলতে পেরে গরম চা অনেক অভিভূত। গরম চা কে তিনি নিজের সম্পর্কে যা বললেন,

এক শব্দে নিজেকে যদি বর্ণনা করতে বলা হয়,  তবে সেটা হবে -

এটা বলা আসলে একটু কঠিন। যদি যেকোনো একটা বিশেষত্ব বা ব্যাক্তিগত  বৈশিষ্ট্য বলতেই হয় তাহলে বলব, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ!

বর্তমান প্রফেশনাল জীবনের একটা পছন্দ আর  অপছন্দের কথা বলুন!

আমি এমন একটা টিমকে নেতৃত্ব দিচ্ছি যারা প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের হাজার হাজার মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে এবং আনছে। প্রযুক্তি বা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করাটা এখনও একটু চ্যালেঞ্জিং, কারণ মানুষ এখনও এসব ব্যাপারগুলো বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু আমি আমার টিমকে নিয়ে সন্তুষ্ট, কারণ যারাই আমার টিমে আছে তারা টেকনোলজি বিষয়ে জানে এবং এই প্লাটফর্মের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানে। অন্য দিকে অপছন্দের কিছু বলতে গেলে আমি বলব, আমি ব্যক্তিগত ভাবে রূঢ় ব্যবহার পছন্দ করি না, কিন্তু কোন টিম বা দলকে নেতৃত্ব দিতে গেলে মাঝে মাঝে কঠোর হতে হয়।

এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশাজনক অভিজ্ঞতা কি বলে আপনি মনে করেন?

আমি সব সময় আর্থিক আত্মনির্ভর্শীলতাকে পছন্দ করি। আমার গ্রাজুয়েশনের পর থেকেই নিজের ভরণপোষণ নিজেই জোগাড় করেছি। লন্ডনে থেকে পড়াশুনা করার কারণে আমার নানা ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি প্রায় তিন বছর জি এ এম - এ কাজ করেছি; এটা একটা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আমি অন্য একটা ভাল সুযোগের জন্য জি এ এম - এর চাকরি টা ছেড়ে দিই। কয়েক দিনের মধ্যে আমি বুঝতে পারি, ভাল দিন কাটানোর জন্য চাকরিটা হয়ত ঠিক ছিল, কিন্তু আমার যে শেখার মাধ্যম বা পরিবেশ; সেটাই বন্ধ হয়ে গেছে। আসলে, বিশেষ কিছু জানতে হলে কিছু অভিজ্ঞ মানুষ বা পরিবেশের দরকার হয়,  আর এই জন্য আমি জি এ এম কে ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ এই প্রতিষ্ঠান আমাকে দায়িত্ববোধ, কিভাবে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হয়, - এইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো  শিখিয়েছে। জি এ এম থেকে শেখা এই বিষয়গুলো আমার পরবর্তী পেশাগত জীবনে অনেক সাহায্য করেছে এবং মায়া আপা'র যে কনসেপ্ট তা ভাবতে সাহায্য করেছে। আমার এখনো মনে হয় জি এ এম  থেকে চলে আসা আমার পেশাগত জীবনের সবচেয়ে হতাশাপূর্ণ সময় । আরও কিছু সময় সেখানে থাকতে পারলে হয়ত আরও অনেক কিছু শিখতে পারতাম।

অনুপ্রেরণা হিসাবে আপনি আর যেসব প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুসরণ করেন।

আসলে বললে অনেক নামই মাথায় আসে কিন্তু একজনের কথা না বললেই নয়, তিনি হলেন ভার্জিন এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রান্সন ও ফেসবুক এর সিওও শেরিল স্যান্ডবার্গ। শেরিল  ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটা প্রবন্ধে মায়া আপা সম্পর্কে বলেন। তিনি এই প্রবন্ধে বলেন যে, মায়া আপা এমন একটি প্লাটফর্ম যার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক বাঁধার কারণে যেসব মানুষ তাদের সমস্যা বলতে পারতো না, তাদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে মায়া আপা। শেরিল স্যান্ডবার্গ সব সময়ই আমার প্রেরণা ছিলেন, আর স্যান্ডবার্গের এই স্বীকৃতি শুধু মায়া আপা'র জন্যই না বরং এর সেবার মাধ্যমে যে বড় একটা জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে তাদের জন্যও এটা একটা অনেক বড় অর্জন। মায়া আপা'র মাধ্যমে তারা তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারছে এবং মায়া আপা সব সময় চেষ্টা করছে মায়া আপা'র ইউজারদের উন্নত সেবা দিতে, যাতে তারা যে সঠিক সেবা ব্যবহার করছে তা অনুভব করতে পারে। গুগল বা ফেসবুকের মত মায়া আপাও ধীরে ধীরে বিশ্ব অঙ্গনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আমি আশা করি।

আপনার মতে সাফল্যের সংজ্ঞা কি?

সফলতা কখনো সহজে ধরা দেয়না। আমার জীবনে এখন পর্যন্ত কোন সফল মানুষকে আমি দেখিনি যার সফলতা অনেক সহজে এসেছে। যদি জানতে চাওয়া হয় যে মায়া আপা নিয়ে আমি সফল কিনা, তাহলে আমি বলব; না! আমি এখনও মায়া আপা'র সেবা উন্নত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আরও একটা দিক, যেটা সফল হওয়ার জন্য আবশ্যক; তা হল কিছু বিশ্বস্ত ও কর্মঠ জনবল। আর আমি মনে করি মায়া আপাতে সেরকম কিছু যোদ্ধা আছে যারা আমার সফলতার যুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মায়া আপা'র সেবা আসলে শুধু যে মহিলাদের জন্য, যেখানে তারা তাদের গোপনীয়তা বজায় রেখে কিছু বিষয় আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে; - এতে আমি মোটেই একমত নই। অবাক করা হলেও মায়া আপা'র প্রায় ৪০% ইউজার হল পুরুষ। বাংলাদেশে সব সময় নারী সমাজের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়; - ছেলেরাও কিন্তু অনেক সময় সামাজিক বাঁধা বা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তাদের অনেক সমস্যার কথা বলে না। শুধু মেয়ে না বরং ছেলেদেরও ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো মায়া আপা সমাধান করার চেষ্টা করে থাকে। আমি এইদিক থেকে সফল মনে করি এই অ্যাপ কে, কারণ আমাদের এই সেবা শুধু মহিলা বা মেয়েদের জন্য করা হয়েছিল, কিন্তু মেয়েদের পাশাপাশি আমাদের সমাজের ছেলেরাও এই পরিসেবা নিচ্ছে এবং প্রমান করছে যে তাদেরও সহযোগিতা দরকার। এই ব্যাপারটা ধীরেধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে, যেটা একটা সুসংবাদ। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নারী পুরুষ উভয়ের জীবনেই আসতে পারে এবং সেইসব সমস্যাগুলো আমার টিম সফলতার সাথে সমাধান করছে, এতে আমাদের ব্যবসার উন্নতির সাথে সাথে সমাজের দৃষ্টিকোণ পরিবর্তন করতে পারছি। - এদিক দিয়ে আমি নিজেকে সফল মনে করি।

ছোটবেলায় কি হতে চাইতেন? যেমন আমার স্বপ্ন ছিল আমি পাইলট হব আর বিল ক্লিনটন কে বিয়ে করব কারণ তিনিও আমার মত বাঁহাতি। আমাদের সবারই ছেলেবেলার কিছু আকাশচুম্বী স্বপ্ন থাকে, আপনার কি ছিল?  

আমার শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটে চট্টগ্রামে, কিন্তু আমার ছোটবেলা থেকেই মনে হত; চট্টগ্রাম আমার জন্য না। আমি বরাবরই একটু একগুঁয়ে ছিলাম। চট্টগ্রামে থাকতে আমার মনে হত, হয়ত এই জায়গাটা আমার জন্য নয়,। আমি আরও কিছু চাই যা এখানে নেই। সবসময়ই ভাল কোথাও পড়াশুনা করা, ভাল কোথাও থাকা আমার স্বপ্ন ছিল। আর সেই স্বপ্নের খোঁজেই পরিবারের সাথে কিছুটা বিরোধিতা করেই আমার ঢাকায় আসা। এরপর ঢাকার জীবন শুরু। - এলাম ঢাকায়, স্কলাস্টিকায় ভর্তি হলাম এ লেভেল, ও লেভেলের জন্য। আমি আসলে কখনই যুক্তি ছাড়া কিছু করি না; সেই ছোটবেলা থেকে। মানুষের কথা বা যুক্তি শুনে কখনও কিছু করতাম না আমি, আমার নিজের যা যুক্তিসংগত মনে হত, তাই করতাম। আসলে, জীবনে স্বপ্নকে সত্যিতে রূপান্তরিত করার জন্য অনেক সাহসের প্রয়োজন। আমার এ লেভেলের পরেই আমি পারি জমাই লন্ডনে। সেখানে ফাইনান্স নিয়ে পড়াশুনা করি। আমরা সবাই জানি যে, লন্ডন অনেক ব্যয়বহুল একটা শহর, কিন্তু আমি আসলেই নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করি, কারণ সেখানে থাকার জন্য যা দরকার আমি নিজেই ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়াটা আমার জন্য সবসময়ই চালেঞ্জিং মনে হত। এমন না যে আমি সব সময়ই উদ্যোক্তা হব বা নিজে কোন প্রতিষ্ঠান দেবো, এরকম ছিলনা ব্যাপারগুল, কিন্তু আমি চাইতাম নিজের ক্যারিয়ারে সফল হতে। কখনই অত বড় স্বপ্ন দেখিনি, শুধু চাইতাম একটা সুন্দর আর উন্নত জীবন।

কখন আপনি উপলব্ধি করলেন যে আপনার নিজের একটি ব্যবসা শুরু করার সময় এসেছে?

লন্ডন আর ঢাকাতে থেকে জীবনের অনেক কিছু দেখলেও আমি বাংলাদেশি আর এই জন্যই আমার নিজের কিছু বিশ্বাসের পরিধি আছে। কিন্তু বাংলাদেশের তথাকথিত সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আমি কখনই মাথা ঘামাইনি, কারণ বিয়ের পর আমি আমেরিকা চলে যাই আমার হাজব্যান্ড এর সাথে। আমি যখন প্রথম মা হতে চলেছি তখনই আকস্মিকভাবে আমার মায়ের স্তন ক্যান্সার ধরা পরে। তো আমি যখনই হাসপাতালে মায়ের কাছে যেতাম, দেখতাম যে আমার মা সবার সাথে দূরত্ব বজায় রাখতো। নিজেকে লজ্জিত ভাবত, যেন ক্যান্সার একটা ছোঁয়াচে অসুখ। আমাকে এই ব্যপারটা আচমকাই নাড়া দেয়। আসলেই আমাদের দেশের মহিলারা এমন একটা পরিবেশে থাকে, আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে এক ধরনের  হীনমন্যতা জন্ম নেয়। কেউ যদি আমাদের কাছে কিছু বলে হালকা হতে চায়, তাকে উদ্বুদ্ধ না করে আমরা সহজেই বিচার করি ফেলি। আমাদের জীবনে এমন মানুষ দরকার, যার সাথে আমরা সব বলতে পারি। আমি আমার জীবনে যতদূর এসেছি, সব আমার মায়ের জন্য। আর অসুস্থ অবস্থায় আমার মাকে দেখে আমার একটা কথা মনে হয় যে, আমি এমন একটা প্লাটফর্ম বানাতে চাই যেখানে মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, তাদের মনের কথা, সমস্যা সবকিছু নির্দ্বিধায় বলতে পারবে এবং কোন সমস্যার কথা বললে আমরা তার সমাধান দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করব। আর এই থেকেই মায়া আপা'র ধারণা আসে। এখন আমি আমার সাথে যারা ব্যবসা করছে, ওদেরকে এই ইচ্ছার কথা বলি। এরপর প্রথমেই আমরা একটি ওয়েবসাইট বানাই, যেখানে মানুষ তাদের মনের কথা গোপনীয়তা বজায় রেখে বলতে পারত। এই প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসা থেকে আমরা হয়ত অনেক লাভ করছি না, কিন্তু আমরা যে প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি এইটাই অনেক পাওয়া। মাত্র তিন জনের হাত ধরে শুরু হওয়া মায়া আপা আজকে প্রায় ১২০ জনের এক বিশাল পরিবার। কোন পরিকল্পনায় রাতারাতি সফলতা আসে না, ধাপে ধাপে আগালেই যেকোনো ব্যবসা বা কাজে সফলতা আসবেই।

সকল প্রতিষ্ঠাতা/সহ-প্রতিষ্ঠাতা/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এর একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে তাদের স্বপ্নকে একটি অন্যমাত্রায় নিয়ে যেতে চান বা পরিকল্পনা করেন। ২০২০ সালের মধ্যে মায়া আপাকে নিয়ে আপনার সেরকম কোন স্বপ্ন বা পরিকল্পনা আছে কি?

এভাবে চিন্তা করলে আমি চাই লক্ষ লক্ষ মানুষ মায়া আপা ব্যবহার করবে আর এই ব্যবসার মাননির্ণয় সম্ভব হলে হওয়াতে চাই কোটি কোটি তে। আর আমি এমন স্বপ্ন দেখতে পারতামই না যদি আমার পরবর্তী প্রজন্মের, পক্ষপাতশূন্য এবং মনখোলা, ই-ডক্টরস্ তৈরী করার উদ্যগে সফলতা না আসত । আমার ভাবতে ভাল লাগে এটা জেনে যে মায়া আপার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক ডাক্তার স্বীকার করেছেন তারা এখন রোগীদের অন্য দৃষ্টতে দেখে, সময় নিয়ে আলাপ করে এবং নতুন ভাবে সহমর্মিতা দেখান। তাদের মতে মানসিক সমস্যা বা মনগড়া সামাজিক মানসিক ব্যাধি একটি সহমর্মিতাসম্পন্ন কথোপকথনই অনেকটা সারিয়ে তুলতে পারে। এই চিন্তা ভাবনাটাই আমার উদ্যোগের অনেকটা কাজ এগিয়ে দিচ্ছে।  অনেক সময়ই ডাক্তারের কাছে গেলে তারা রোগীদের সমস্যা ঠিক মত শুনে না এমনকি অনেক সময় খারাপ ব্যবহারও করে ফেলে। ডাক্তারের আরও ধৈর্যশীল হওয়া উচিত, আর মায়া আপা সেই গৎবাঁধা চিকিৎসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে, ই-ডাক্তার ধারণা নিয়ে। মায়া আপা আজকে যে অবস্থায় আছে, আমরা যদি ই-ডাক্তার নিয়ে কাজ না করতাম তাহলে হয়ত কখনই এই সফলতা অর্জন করতে পারতাম না। যারা মায়াতে ই-ডাক্তার হিসাবে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তারা নিজেরা তাদের মুক্ত মানসিকতা নিয়ে রোগীদের বা অন্য সমস্যা নিয়ে আসা মানুষদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আর আমি চাই মায়া আপা ধীরে ধীরে সব ধরনের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাক এবং তাদের জীবনে যে কোন ভাবে একটি ভাল প্রভাব রেখে যাক।

আপনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার পর আপনার সামাজিক জীবনে কোন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে?

আমার জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে তা হল, প্রয়োজনের বাইরে সামাজিকতা রক্ষার না করার অভ্যাস। জীবন খুব কঠিন ভাবে এটাই শিখিয়েছে যে, সমাজে ভাল প্রভাব ফেলবে এরকম কাজ করতে যতটুকু সামাজিকতা দরকার, তার বাইরে কিছু করার দরকার নেই। আমার পরিবারের সদস্য আর বন্ধু ছাড়া খুব বেশি সামাজিকতা রক্ষার কোন প্রয়োজনই নেই।

কথোপকথন শেষে একটি সেলফি, আইভি হক রাসেলের সাথে ।

In Conversation with the Founder and CEO of Maya Apa, Ivy Huq Russell

Teatalk Naima Zaman on 17 January 2018

Maya Apa was formed due to the social need of expert advises to mass and that a substantial number of people are suffering from the lack of such a service.


An anonymous expert messaging platform, Maya Apa started its journey in 2015, with an aim to support day-to-day crisis queries through an intelligent digital platform - queries gets to the subject matter expert through a complex algorithm in real time. As they say, this service is re-inventing ways people would access expert advice in developing countries, helping people, especially women, handle social stereotypes and state of mind with awareness. The venture is an attempt to conceptualize that expert advice is easily reachable via technology and Maya Apa has ensured so with an active, user-friendly website and mobile app. 

In the era of digitizing Bangladesh, Maya Apa surely is one of those unique endeavours that came under the radar of a lot of national and international entities. In association with BRAC, the largest NGO of the country, Maya Apa trails its future to becoming the smartest, open-minded, expert service provider touching millions of lives and an user-friendly product to hike its user base. Recently, the startup became more visible as it is to participate in the prestigious program from Google called the Google Accelerator Launchpad. The 6-month long program welcomes startups from around the world to have sessions and workshops with Google’s Experts and Maya Apa is the first ever Bangladeshi startup to participate.

When it comes to unique business ideas and models, anybody would wish to know the behind-the-scenes work that created today’s polished product or to be precise, the minds behind the success. It was an honor for Goromcha to sit and talk about the great initiative over tea, with the CEO and Founder, Ivy Huq Russell.

Here’s is what she has to tell to Goromcha.

One word that describes you the best : that is a tough one. But if I need to pick one then it will be… uuummmm……  Tenacious !

One thing you like and dislike about your current position.

I am leading a team that touched millions of lives through it’s unique technological aspect. Working with tech is still a pretty new concept in terms of understanding. But I am glad my crew is tech oriented and understands its booming concept. I extremely dislike my acquired kind-to-be-cruel attitude but that helped and still helps me focus even on the hardest of the decisions to make.  

Biggest let down in her career so far?

I have always been a finance person. I started making a living on my own as soon as I graduated. Studying and living in London has been my biggest ever exposure to tons of opportunities. I was working for GAM, an asset management group for 3 years when I decided to leave the job to grab another seemingly better opportunity. Soon did I realize that this new endeavour was right for make-a-living purpose but learning came to an absolute halt and the lesson I definitely learned is that every employer deserves a chance when there are so many things to learn from. Expertise does take you to places and learning is the ultimate pre-requisite to expertise. I am very thankful towards GAM for making me more responsible and logically answerable, meet the deadline no matter what and importantly taught me becoming thick skinned. These lessons have substantial impact in my life and contributed a lot extent to ideating Maya Apa. So the let down is, I left GAM too early and I should have given it a chance.  

What other CEOs do you look up to?

There are plenty to name. But the ultimate inspirations have been Sheryl Sandberg, the COO at Facebook and Richard Branson, founder of Virgin Enterprise. In an article at the Indian Express, Sandberg mentioned Maya Apa as one of the pioneering socio-technical platform that brought about a change to the mindset of the people who had nowhere to go when faced with abrupt social stereotypes. Sandberg recognizing Maya Apa is one of the biggest achievements for me because I always look up to Sheryl for motivations and inspirations and that not many products and startups are recognized this way. This is not just an achievement for Maya Apa alone but also to the mass population availing Maya Apa, indicating that they have chosen the right platform to consult and open up and it is recognized by globally popular businesses like Facebook and Google.

What is success according to you?

Success has never come easy, at least I have not seen it coming to people I know any easy. If I am to explain my success story about Maya Apa, then I am not even close. But I am on my mission to make it successful which is to have an army of people to fight for the success. No one ever won business fights alone and it’s even powerful with your knights always there to back you up. Another thing, I did not start ideating with my partners about Maya Apa, all of them are women, to serve any other people but women, to share their utter secrets and relieve their dying mind. But to our ultimate surprise, 40 percent of the user base of Maya Apa are men. This again is a splendid milestone covered by Maya Apa, because no matter how much developing nations like Bangladesh speak and rebel about women empowerment, men suffer equally from social stereotypes. For example, we get queries like, “I am the only bread earner of the family, i do not earn much and it’s on me to marry off my 3 sisters. How can I manage my finance and not anyone let down!.” This is daunting, as men are deemed to be responsible on these and they face all the stereotypical expectations let alone illogical. I define this as a success because, from business perspective I have just expanded by target market. The product was not literally developed to service men but the fact that men even turned to Maya Apa for motivational support triggers the prospect that men even need support and that it’s about time we work together into kicking some stereotypes obsolete and Maya Apa can help.

What did you want to become as a child? Like I wanted to become a pilot and marry Bill Clinton as he was left handed just like me. So what were your innocent dreams?

Bill Clinton is a handsome man!! Well I spent my childhood in Chittagong. And there is a huge difference between Dhaka and Chittagong; at least I felt so when I came to Dhaka. No idea where all my dreams of a better life would come from but I got a feeling, more like a killing gut feeling, that no I need more, something is terribly missing here, I don’t belong here but somewhere better and I need a better education. So rebelled to the core with my family and finally ended up coming to Dhaka and got admitted in Scholastica. I have been rebellious as a child too and I never settled without a logic even at that young age. I am glad the way I am or else I would have settled for what others would have thought best for me. You need dreams of prospering and be courageous enough to pursue that. And as I said, there was a huge difference that I came across while I started my life in Dhaka. It was such an immense exposure to me, the businesses, the people in my school, my environment: everything was big compared to where I came from. Soon after my twelfth was over, I went to London, studied Finance and was lucky enough to secure a job and have an apartment on my own. London is expensive still I am glad I made it. It was not a very strong objective in my mind that I will have a business of my own and I will be ideating a model, but I have always been a finance person so definitely wanted to be a professional in some renowned organization. You know, that is how my rebellious soul worked, I will do things better and smart, at least that is how my smart was and that is innocent to the core. No big dreams that I would become this or that. Just a better life.

When was it that you realized it’s time to start a business of your own?

No matter how much of exposure I have had from London and Dhaka, I am Bangladeshi by birth and I am also typical to a range of beliefs. I got married at 27, which is considered old for a bengali girl, so yes I went through social lashes too, but it could not bother me much as I went to US to live with my husband. I was pregnant with my first child when my mother was diagnosed with breast cancer. I started travelling from US to Dhaka back and forth for my mother’s treatment and gladly she recovered after a few sets of radiotherapies. I used to take my mother to the doctor and she would feel really uncomfortable seeing other women there as if she has a disease to be so ashamed of and she wouldn’t hug anyone, not even my kid, saying it is contagious. I am a woman and a mother too, so I felt her issues and thought that where would women go where they can share their heart out, their worries and triggers, and yet not be judged: we all have fears, we have issues of shame to share with someone to feel lighter and think nothing wrong about ourselves at the same time; someone needs to tell us that it is normal, without judging and that a fresh start is always possible taking the incident as a lesson. We always see when there is a fresh cut and it bleeds but we tend to be so ignorant when our mind suffers. We are brought up with rights and wrongs, both social and familial, but never about contingency plans if things do not go the way we are taught. My mother’s situation reminded me of all the social pullbacks I encountered and how, coming from a small town back in time, my mother supported me with trust and encouraged me to pursue my dreams. I am what I am because of my mother today. I discussed the issue with my current partners and we started a blog in 2014 named Maya Apa, after the name of my mother, Maya. We three would write blogs regarding feminine issues and made it responsive. Later worked with few good people and the plan concluded into making an app and website where women (users) can anonymously ask all those questions they can’t ask anyone else; tried our level best back then to become the shoulder and comforting voice through technology and reach millions waiting to be heard. I am getting really nostalgic on how we worked. It was one heaven of a journey. Maya Apa is growing. So now when we are meeting the investors and they talk about business growth, I always end up stopping them and telling them, wait, we are missing out on an important insight. We might not be generating as much revenue as expected but we grew in terms of tech, reached millions of people, and ensured a social impact through technology. We started the blog Maya Apa with only 3 of us and now we have a moderate team of 20 full timers and 100 plus on demand doctors, therapists and counsellors. There is no overnight hacking to building a sustainable service and business model. You have to take one step at a time.

Every Founder or Co-Founder or CEO dreams of taking their endeavour to a certain height after a certain period of time. How big do you dream Maya Apa to become by the end of 2020 ?

I want a user base of millions and value Maya Apa in millions and if possible billions. And I wish so because Maya Apa could not be what it is today if we had not worked into making next generation e-doctors, who are unbiased and completely non-judgemental. A lot of doctors who work with Maya Apa, said that they now look at patients in a completely different way and not to mention they do not want to judge and even empathize differently. People go to doctors to heal and because docs would judge too, patients are more scared to visit them. I think this is socially progressive as we are learning to be more helpful to people who need it.

What significant changes have you encountered in your social life once you became the CEO?   

One of the most significant changes or tweaks that I ensured is learning not to be social or to compress the idea, beneficial socializing. Learned it in the hardest way that it is ok not to be too social. I have friends and they know where to find me.