বাংলাদেশে এনসিডি এর ভয়াবহতা

আপনার স্বাস্থ্য দীপান্বিতা সূত্রধর || 13 February 2018

আগামী ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুর কারণ হবে ডায়েবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সারের মত অসংক্রামক রোগ বা এনসিডি।


আমাদের আশেপাশে অনেকেই আমরা প্রায়ই বলতে শুনি, বয়স ৩৫ এর উপরে গেলে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন হবেই। এইটাই স্বাভাবিক! আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই এই জিনিসগুলো গুরুত্বের সাথে দেখে না। বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের সাথে সাথে অসংক্রামক রোগ (ডায়েবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ) বা নন কমিউনিকেবল ডিজিস (এনসিডি) এ আক্রান্তের হার বেড়ে চলেছে। এনসিডি মোকাবেলায় বরাদ্দ সীমিত সম্পদ, চিকিৎসকের অভাব, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, এনসিডি নিয়ে মানুষের সচেতনতার অভাব, অসংক্রামক রোগ ও এর ক্ষতিকারক দিক নিয়ে জ্ঞানের অভাব মূলত এর জন্য দায়ী।

আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগেও বাংলাদেশের মত দেশে ডাইরিয়া, কলেরার মত সংক্রামক রোগে মৃত্যু ছিল চিকিৎসকদের উদ্বেগের কারণ। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে হঠাৎ করেই সারা বিশ্বেই অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সমস্যা বেড়ে যেতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞগণ ধারণা করেছেন যে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুর কারণ হবে ডায়েবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সারের মত অসংক্রামক রোগ। অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির কারণগুলো নির্ণয় করা গেলেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়ত কিছুটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে দরিদ্র মানুষেরা বেশি ধূমপান বেশি করে। বেলজিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিক হেলথ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে যে সিগারেট কোম্পানিগুলো সবসময় দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ গুলোকে লক্ষ্য করে কেননা অনেক সময় মানুষ দারিদ্র্যের সাথে বসবাস, মানসিক চাপ এবং কখনও কখনও হতাশায় ভুগে সিগারেটের দিকে ফিরে যায়। ধূমপানের কারণে উচ্চ রক্ত চাপ এর সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও বাংলাদেশে গর্ভাবস্থা পরবর্তী ওবেসিটি বা মেদবৃদ্ধি ও অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগের কারণ। ওবেসিটি বা মেদবৃদ্ধি থেকে ডায়াবেটিস আর তা থেকে উচ্চ রক্তচাপ; এভাবেই অসংক্রামক রোগগুলোর ঝুঁকির কারণ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (২০১১) অনুসারে বাংলাদেশে ৩৫ ঊর্ধ্ব বয়সের লোকের (নারী ও পুরুষ উভয়) প্রায় ৫১% উচ্চ রক্তচাপে ও ১১% মানুষ ডায়েবেটিসে আক্রান্ত। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে অস্বাস্থ্যকর খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং তামাক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার বাংলাদেশে এনসিডি-র ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ৭০% (৩৯.৫ মিলিয়ন) মৃত্যুর কারণ হল এই এনসিডি আর তার তৃতীয় চতুর্থার্থ (৩০.৭ মিলিয়ন) ঘটে বাংলাদেশের মত স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশে করা এনসিডি ঝুঁকি সংক্রান্ত জরিপ থেকে জানা যায়, ২৬.২% বাংলাদেশী প্রাপ্তবয়স্কদের ধূমপান করে, যা এনসিডি বা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির অন্যতম কারণ। একই জরিপ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, দেশের জনসংখ্যার ৯৫.৭ % অপর্যাপ্ত ফল ও সবজি খায় আর এই কারণেই প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ১৮% অতিরিক্ত ওজন বা মেদবহুলতায় ভোগে। আর আশ্চরজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশে প্রায় ৫৯% মৃত্যুর কারণ ডায়েবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সারের মত অসংক্রামক রোগ বা নন কমিউনিকেবল ডিজিস (এনসিডি)। 

কিন্তু ভাল সংবাদ এইটাই যে বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থাগুলির সাথে বাংলাদেশ সরকার দেশে এনসিডি এবং তার ঝুঁকির কারণগুলি মোকাবেলা করার জন্য কাজ শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ব্র্যাক, বারডেম সহ দেশের প্রায় সকল জেলা শহরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ওবেসিটি নিয়ে চিকিৎসকেরা তাদের অবিরাম সেবা দিয়ে চলেছেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি আর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে পরিচালিত হলেই দেশে এনসিডির ভয়াবহতা কমে আসবে বলে আশা করা যায়।


NCD Situation in Bangladesh

Health Dipanwita Sutradhar on 13 February 2018

NCDs are estimated to account for 59% of total deaths in Bangladesh.


In recent years, non-communicable diseases (NCD), including cardiovascular diseases, diabetes, cancer, and chronic respiratory disease are impacting negatively on human health and hindering human development. As Bangladesh is going through a demographic and epidemiologic evolution where disease burden is fluctuating from communicable diseases to non-communicable diseases.

According to Bangladesh Demographic and Health Survey (2011), in Bangladesh, 26.4% adults are hypertensive and 11% adults are diabetic. Current data also recommends that occurrence of avoidable risk factors for NCD like unhealthy diets, less physical inactivity and tobacco consumption are increasing in Bangladesh.

Limited resource allocation in the health sector, pluralistic health system, lack of public-private partnership, lack of regulatory framework, poor implementation of policy, and poor awareness regarding NCD make it difficult for country’s health system to efficiently confronting the growing burden of NCD.

According to Bangladesh Demographic and Health Survey (2011), in Bangladesh, 19% of 35 old age men and 32% women are hypertensive; 11% each of women and men have diabetes. Lately, non-communicable diseases (NCDs) especially diabetes, hypertension, chronic obstructive pulmonary disease (COPD) and cancer have appeared as a global concern imposing the disproportionately higher impact on low and middle-income countries. As stated by WHO, 70% of global deaths (39.5 million) were attributable to NCDs of which over three quarters (30.7 million) happened in low and middle-income countries in 2015. Prevalence of diabetes and hypertension is showing increasing trend in recent years. Moreover, NCDs are estimated to account for 59% of total deaths in Bangladesh.

In addition, according to Bangladesh NCD risk factors survey (2010), 26.2% Bangladeshi adults smoke tobacco, which is a well-known risk factor for developing NCDs. The same study also revealed that 95.7% of the country population consumes inadequate fruits and vegetables. Prevalence of overweight is also noticeable (18.0%) among Bangladeshi adults.

Therefore, the government of Bangladesh along with different non-government organizations has started working to combat NCDs and its risk factors in this country. Bangladesh government along with BRAC, BIRDEM, and district health complex; doctors are trying their best to provide health service and advice to the patients of NCD. Consequently, the methodology should be taken to clinch an active prevention program by intensifying alertness of people about a perfect and healthy lifestyle.