এলন মাস্কের ভার্জিন হাইপারলুপ পরিবর্তন ব্যাপক পরিবর্তন আনবে যোগাযোগ মাধ্যমে

প্রযুক্তি ভাবনা দীপান্বিতা সূত্রধর || 19 February 2018

হাইপারলুপ সিস্টেমকে এমন ভাবে বানানো যাবে যাতে এটি ঘণ্টায় ১২০০ কিমি বেগে চলতে পারবে। এটি আসলে সৌর শক্তি চালিত উচ্চগতি সম্পন্ন ইঞ্জিন বা মোটর। আর আসলেই যদি এরকম হয় তাহলে ৬১৪ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট।


বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরস আর মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলন রিভ মাস্ক বিশ্বের পাবলিক যাতায়াত ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছেন। গত বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্পেসএক্সের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রোগ্রামে এলন মাস্ক বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থার একটা নতুন ধারণা সবার সামনে তুলে ধরেন। ‘হাইপারলুপ’ নামে এই পুরো ব্যবস্থা মানুষের তথাকথিত যাতায়াতের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিবে এবং এলন মাস্ক মনে করেন যে এই যাতায়াত ব্যবস্থা মানুষের আসন্ন জীবনকে অনেকটাই বদলে দিবে। কিন্তু ‘হাইপারলুপ’ নামক আন্তনগর যাতায়াত ব্যবস্থাটি কি আসলেই বাস্তববাদী কোন পরিকল্পনা নাকি শুধুই একজন কোটিপতি বিনিয়োগকারীর দিবাস্বপ্ন?

১৮২৯ সালে উত্তর ইংল্যান্ডে লিভারপুল আর ম্যানচেস্টারে রেল যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতা থেকে যাতে ঐ স্থানের জন্য সবচেয়ে ভাল চলাচলের জন্য কি উপায় তার ধারণা পাওয়া যায় এতে অংশগ্রহণকারী দের কাছ থেকে। প্রতি  ঘণ্টায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার যেতে পারে এইরকম একটা ক্যাপসুল আকৃতির ইঞ্জিন বানিয়ে প্রথম পুরষ্কার অর্জন করেন জর্জ স্টিফেসন নামে এক ব্যক্তি। আর এইটাই ছিল প্রথম জনপ্রিয় বাস্পচালিত ইঞ্জিন যার মাধ্যমে ইংল্যান্ডে এবং ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার ব্যবস্থার এক বিশাল পরিবর্তন আসে। আর সেই থেকে দুই শতক পরে এরকমই এক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুগান্তকারী উদ্ভাবনী ভাবনাকে বাস্তব করে মানুষের নজরে এনেছেন এই এলন রিভ মাস্ক।

হাইপারলুপ হল সৌর শক্তি চালিত উচ্চগতি সম্পন্ন ইঞ্জিন বা মোটর। কিন্তু কিভাবে কাজ করে এই হাইপারলুপ? আসলে হাইপারলুপের এই সিস্টেম দুইভাগে বিভক্ত থাকবে একটি অংশ হল আংশিক ভ্যাকুয়াম টিউব আর অন্যটি হল পড বা যাত্রীবাহী যান। আর লিনিয়ার আবেশ মোটর দ্বারা পড টি চালিত হয়। এই পড টি অনেক বেশি গতিতে চালিত হবে কারণ তা ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে দিয়ে যাবে ফলে কোন ধরণের ঘর্ষণ একে ব্যাহত করতে পারবে না। হাইপারলুপ ট্র্যাক নির্মাণে খরচ হবে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার।

সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রকৌশলীরা স্পেস এক্সের নিজস্ব আংশিক ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে দিয়ে তাদের তৈরি পডের প্রটোটাইপ চালায় এই প্রতিযোগিতায়। বর্তমানে পৃথিবীর দ্রুততম ট্রেনটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিমি বেগে চলে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলীরা আশা করেন যে এই হাইপারলুপ সিস্টেমকে এমন ভাবে বানানো যাবে যাতে পডটি ঘণ্টায় ১২০০ কিমি বেগে চলতে পারবে। আর আসলেই যদি এরকম হয় তাহলে ইউ এসের লস এঞ্জেলেস থেকে সান ফ্রান্সিসকো কিংবা জার্মানির মিউনিখ থেকে বার্লিন পর্যন্ত ৬১৪ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। কিন্তু প্রতি ঘন্টায় ১২০০ কিমি পথ পাড়ি দেয়া তাও আবার যাত্রী নিয়ে, এইটাই হবে হাইপারলুপ কে বাস্তবায়িত করার সবচেয়ে বড় বাঁধা। আর্থিক আর প্রকৌশলগত সমস্যা ছাড়াও আরও অনেক পারিপার্শ্বিক পরিবেশগত সমস্যা, যাত্রীদের নিরাপত্তাজনিত অনেক বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে হাইপারলুপ নামের স্বপ্নকে সত্যিতে রূপ দিতে গেলে।

২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত এলন মাস্ক যতগুলো প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছে প্রথম তিনটি ব্যতীত সবগুলোই সফল। প্রথম তিনবার ব্যর্থ অভিযানের পর স্পেসএক্স এখন পর্যন্ত ২০ টি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে যার প্রত্যেকটি সফল হয়েছে। পে-প্যাল, টেসলা মটরস সহ স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজি, জিপ২ এবং সোলার সিটি সহ এতগুলো সফল ব্যবসার উদ্যোক্তা থেকে হাইপারলুপের মত প্রকল্পের বাস্তবায়ন আশা করা কল্পনাতীত কিছুই নয়। তবে এইটা সত্য যে হাইপারলুপের বাস্তবায়ন হলে বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যমাত্রা যোগ করবে।  

Elon Reeve Mask's Hyperloop may change the future transport system

Tech Dipanwita Sutradhar on 19 February 2018

Hyperloop system can be built in such a way that the pod can run at speeds up to 1,200 km per hour. It is a solar-powered high-speed engine or motor.Besides if this is the case then it will take 30 minutes to go from Los Angeles to San Francisco.


Elon Reeve Mask, CEO of Tesla Motors and space travel agency SpaceX, is going to make a revolutionary change in the world's public transport system. Last year Elon Mask presented a new concept of transportation among the world's largest cities in a program held in SpaceX headquarters in California. This entire system will be called 'Hyperloop' will completely amend the concept of so-called travel, and Elon Mask believes that this transportation system will change a lot of people's future life. But is the intercity transit system called 'Hyperloop' really a realistic plan or just a billionaire investor's reverie?

In 1829 a competition was organized in Liverpool and Manchester for the development of rail transport system in North England. Participants from this contest get the idea of what is the best way to travel from different place to place in short time. A person named George Stephenson, who attained the first prize by making such a capsule-sized engine which could go about 34 kilometers per hour. And this was the first popular steam engine that came to great changes in England and gradually moving from one city to another and then in the world. Then after two hundred years later, a revolutionary innovation has brought the real attention of people to the Alan Rev Mask through such a competition named ‘Hyperloop Pod Competition’.

Hyperloop is a solar-powered high-speed engine or motor. But how does this work? In reality, this system of Hyperloop will be divided into two parts, one part is partial vacuum tube and the other is a pod or passenger. The pod will be powered by linear induction motors. Additionally, this pod will be driven at a much higher speed so that it can be passed through the vacuum tube and for this reason, no friction can obstruct it. Hyperloop tracks will cost the US $ 600 million.

In the competition, engineers from around the world run prototype pods created by Space X's own partial vacuum tube. At the present time, the fastest train in the world can move about 600 km per hour. Participating engineers hope that this Hyperloop system can be built in such a way that the pod can run at speeds up to 1,200 km per hour. Besides if this is the case then it will take 30 minutes to go from Los Angeles to San Francisco or from Munich to Berlin. But 1200 km per hour along with the passenger, it will be the biggest obstacle to implement Hyperloop. Apart from financial and engineering problems, there are many environmental and thermal problems.

All the projects that Elon Mask has taken since 2008 are all successful except the first three. After the first three failed missions, SpaceX has launched 20 rockets, each of which has been successful. Expecting the implementation of projects like Hyperloop is nothing from a successful entrepreneurs Elon Mask who is supervisor of PayPal, Tesla Motors, Space Exploration Technology, Zip2 and Solar City kind of things. But it is true that if the implementation of Hyperloop will add another dimension of science and technology to the world.