শচীন টেন্ডুলকার থেকে শহীদ আফ্রিদি: বল টেম্পারিং এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

খেলাধুলা দীপান্বিতা সূত্রধর || 29 March 2018

সদ্য সমাপ্ত কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার চলা ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ; ডেভিড ওয়ারনার আর ক্যামেরন ব্যাঙ্ক্রফটের বল টেম্পারিং ঘটনার পরে ক্রিকেট বিশ্বে বল টেম্পারিং নিয়ে হঠাৎই শোরগোল পড়েছে। কিন্তু বল টেম্পারিং আর এর জন্য শাস্তির ঘটনা আজ নতুন নয়। ক্রিকেটের ইতিহাসে এরকম লজ্জাজনক ঘটেছে বেশ কয়েকবার। অবাক করা হলেও ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচিত তারকার অনেকেই জড়িত ছিলেন বল টেম্পারিং এর মত অপকর্মে।


সদ্য সমাপ্ত কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার চলা ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ; ডেভিড ওয়ারনার আর ক্যামেরন ব্যাঙ্ক্রফটের বল টেম্পারিং ঘটনার পরে ক্রিকেট বিশ্বে বল টেম্পারিং নিয়ে হঠাৎই শোরগোল পড়েছে। কিন্তু বল টেম্পারিং আর এর জন্য শাস্তির ঘটনা আজ নতুন নয়। ক্রিকেটের ইতিহাসে এরকম লজ্জাজনক ঘটেছে বেশ কয়েকবার। অবাক করা হলেও ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোচিত তারকার অনেকেই জড়িত ছিলেন বল টেম্পারিং এর মত অপকর্মে। 
ক্রিকেট বল টেম্পারিং বলতে সহজ ভাষায় বলের অবস্থা পরিবর্তন করা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে বল কতটুকু পরিবর্তন করা যাবে তার একটা নিয়ম আছে। সাধারণত বলের কোন নির্দিষ্ট অংশ চকচকে বা রুক্ষ করতে পারলে পেস বোলাররা সুইং বিশেষ করে রিভার্স সুইং বলের ক্ষেত্রে সুবিধা পান। নতুন বলের সিম দিয়ে সুইং করেন বোলাররা কিন্তু বল যদি পুরনো হয়ে যায় তখন এই সিম দিয়ে সুইং করানো কষ্টকর হয়ে যায়। আর যখন সিম দিয়ে সুইং করানো যায় তখনই বল টেম্পারিং ব্যাপারটা আসে। ক্রিকেট বলের সিমের দুই পাশের ওজন আর মসৃণতা পরিবর্তন করে সুইং করানো যায়। বল ট্রাউজারে ঘষা কিংবা সিম থেকে ময়লা সরানো ছাড়া অন্যভাবে বল টেম্পারিং আইসিসি দ্বারা নিষিদ্ধ।
সর্ব প্রথম বল টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠে ১৯৯৪ সালের লর্ডসে ইংল্যান্ড আর দক্ষিন আফ্রিকার মাঝে টেস্ট ম্যাচ চলাকালে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মাইকেল আথারটন সেই ম্যাচে অভিযুক্ত হয়ে ছিলেন বল টেম্পারিং এর জন্য। এখনকার মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ছিলনা ঐ সময়ে কিন্তু তিনি যে পিচের ময়লা পকেটে নিয়ে বল টেম্পারিং এর চেষ্টা করেন তা ক্যামেরায় ধরা পরে যায়। আইসিসি রেফারি পিটার বার্গ তাকে জরিমানা না করলেও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী ৩৭ হাজার ইউএস ডলার জরিমানা দিতে হয় তাকে। 
ইংল্যান্ডের এই ঘটনার প্রায় ছয় বছর পরে বল টেম্পারিং এর  অভিজগে অভিযুক্ত হন পাকিস্তানের পেস বোলার ওয়াকার ইউনুস। নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ রেফারি জন রেইড ওয়াকার ইউনুসকে তার ম্যাচ ফি এর ৫০% জরিমানা করেন। এর সাথে পাকিস্তানের তখনকার উইকেট কিপার মইন খান এবং আজাহার মেহমুদকে ম্যাচ ফি এর ৩০% জরিমানা করা হয়। 
২০০১ সালে শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ উঠে আর সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ রেফারি মাইক ডেনেস টেন্ডুলকারকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেন কারণ তিনি বল পরিষ্কারের জন্য সিমকে নখ দিয়ে খোঁচান। পরে অবশ্য সেই অভিযোগ তুলে নেয় হয়। 
রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত পাকিস্তানের দুর্দান্ত পেসার শোয়েব আখতার ও বল টেম্পারিং এর মত বেআইনি কাজে অভিযুক্ত হন ২০০৩ সালে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচে বল নখ দিয়ে টেম্পারিং করে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তার প্রকাশিত ‘কন্ট্রভারশিয়ালি ইউওরস’ বইয়ে তিনি শিকার করেন যে শ্রীলঙ্কার ডাম্বালার গরম আবহাওয়ার কারণে পিচ অনেক ধীর ছিল আর এই কারণেই তিনি এরকম উপায় বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু এই জিনিসটা নিয়ে মোটেই গর্বিত নন। 
রাহুল দ্রাবিড়, ‘দ্যা ওয়াল’ কিংবা ‘দ্যা জেন্টেলম্যান’ নামে পরিচিত ভারতের এই জীবন্ত কিংবদন্তির নামের পাশেও আছে বল টেম্পারিং এর কলঙ্ক। অস্ট্রেলিয়ায় জিম্বাবুয় আর ভারতের মাঝে চলাকালীন একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বলে লজেন্স লাগিয়ে টেম্পারিং করেছিলেন তিনি। ম্যাচ রেফারি ক্লিভ লয়েড টিভিতে দেখে জানান তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক অতিরিক্ত লজেন্স বলে লাগিয়ে বল টেম্পারিং করেন। এই জন্য রাহুল দ্রাবিড়কে ম্যাচ ফির অর্ধেকাংশ জরিমানা দিতে হয়। 
২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের ওভালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে পাকিস্তান দলকে বল টেম্পারিং এর জন্য বহিস্কার করা হয়। ম্যাচের আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ার এবং বিলি ডক্ট্রোভ ম্যাচটি বন্ধ করে ইংল্যান্ডকে বিজয়ী দল বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরে আইসিসি আর আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ারের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। 
প্রায় ৪ বছর পর ২০১০ সালে আবারও পাকিস্তানের খেলোয়াড় সেই বল টেম্পারিং জন্য দুইটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বহিষ্কৃত হন। তিনি আর কেউ নন পাকিস্তানের অন্যতম দুর্দান্ত খেলোয়াড় “বুম বুম” খ্যাত শহীদ আফ্রিদি। ম্যাচ রেফারি রাঞ্জান মুদ্গাল্লে টিভি আম্পায়ার থেকে বল টেম্পারিং এর ব্যাপারটি জেনে তাকে এই শাস্তি দেয়া হয়। পরে অবশ্য জেতার জন্য যে আফ্রিদি ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন তা স্বীকার করেন। 
অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার আগে শেষ ২০১৬ সালে বড় ধরণের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিস। অস্ট্রেলিয়া বানম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে বল টেম্পারিং এর আগেও ২০১৩ সালে তিনি আরও একবার এরকম অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তাকে পুরো ম্যাচ ফি জরিমানা হিসাবে দিতে হয়েছিল। 
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ; ডেভিড ওয়ারনার আর ক্যামেরন ব্যাঙ্ক্রফটকে বেশ বড় ধরণের শাস্তি দিয়েছে অস্ট্রলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু এর আগে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য বহিস্কার করা হয়নি কোন ক্রিকেটারকেই। সম্প্রতি এই ঘটনা আসলেই ক্রিকেট অঙ্গনে সারা ফেলেছে আর এক বছরের মত সব ধরণের আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে বহিস্কার এমন ঘটনা পরবর্তীতে অন্যদের এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে সতর্ক করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 

Sachin Tendulkar to Shahid Afridi: A brief history of ball tamparing

Sports Dipanwita Sutradhar on 29 March 2018

Worldwide criticism after Australian captain Steve Smith's confession to deceitful act during the third test against South Africa last weekend confronts the fact that ball-tampering is about as old as the game of cricket itself. In cricket history, this is not the first time that this kind of shameful activity has been performed by genius and famous players.


Worldwide criticism after Australian captain Steve Smith's confession to deceitful act during the third test against South Africa last weekend confronts the fact that ball-tampering is about as old as the game of cricket itself. In cricket history, this is not the first time that this kind of shameful activity has been performed by genius and famous players. Surprisingly many of the stars in the world of cricket were involved in ball tampering type of disgraceful action before. 
Changing ball’s physical status is called ball tampering- in easy words. There is a rule of how the ball can be changed by International Cricket Council (ICC). Generally, the pace bowlers get the advantage of swinging, especially the reverse swing ball if they make a specific part of the ball shiny or rough.
Usually, seam bowlers make the ball swing when the ball is new. However, if the ball becomes old then it is difficult to swing the ball. Swing can be done by changing the weight or polishing of both sides of the cricket ball. Ball tampering is prohibited by the ICC, except honing the ball in trousers, or another way to remove dirt from the seam. 
The first ball-tampering accusations arose during the Test match between England and South Africa at Lord's in 1994. England captain Michael Atherton was accused in the match for the ball tampering. There was no sophisticated technology like that at the time, but he tried to tampering with the dirt in his pocket from the pitch and that was caught in the camera. Although ICC referee Peter Burge did not penalize him, according to the England Cricket Board's directive, he was fined 37 thousand US dollars later on. 
About six years after England's incident, Pakistani pace bowler Waqar Yunus was banned for ball-tampering. New Zealand match referee John Raid fined Waqar Yunus the 50% of his match fees. Additionally, Pakistan's wicketkeeper Moin Khan and Azhar Mehmood were fined 30% of the match fees for associating him in this incidents. 
In 2001, this kind of allegation was raised against Sachin Tendulkar and his team while they were playing against South Africa. Match referee Mike Dennis suspended him for one day because he tried to clean the ball’s seam with the nails which are considered as ball tampering.
Shoaib Akhtar known as the Rawalpindi Express was accused of illegal activities like ball tampering, in 2003. He was tampering the ball with nails in a one-day international match against New Zealand in Sri Lanka. Later, in his book 'Controversially Yours', he hinted that the pitch was very slow due to the hot weather in Dumballer, and that is why he chose such a way and he said that it was not an incident which someone should be proud of. 
Legendary cricketer Rahul Dravid, known as 'The Wall' or 'The Gentleman', also has the scandal of ball tampering. In Australia, during a one-day international match between Zimbabwe and India, he tampered the ball with a lozenge. Match referee Kleve Lloyd saw the incident on TV camera that the Indian captain was swelling to extra lozenge and was polishing the ball with that thick saliva. For this, Rahul Dravid has to pay half of his match fees.
The Pakistan team was dismissed for ball-tampering in a match between Pakistan and England at the Oval in England in 2006. Match umpire Darrell Hair and Billy Doctrove closed the match and declared England as the winning team. After this incident, there was a lot of debate about the abuse of power of ICC and umpire Darrell Hair.
After four years, in 2010, the Pakistan players were barred in two one-day internationals for ball-tampering. He is none other than Shahid Afridi, who is one of the finest players in the country, known as "Boom Boom". Match referee Ranjan Mugaddal was given the punishment by knowing the matter of ball-tampering from TV umpire. Later, however, he admitted that he had chosen the wrong way to win.
South Africa's Faf du Plessis was involved in a major ball-tampering scandal in 2016 before Australia's recent incident. In the second Test match between Australia and South Africa, television footage exposed du Plessis sucking on toffee, jabbing fingers into his mouth and then using his saliva to shine the ball. The South African captain was fined 100 percent of his match and also given three demerit points for this act. Previously, he had fined in 2013 for scraping the ball on the zip of his trousers in a match Pakistan.
Australian captain Steve Smith; David Warner and Cameron Bancroft have been given a major punishment by the Australian Cricket Board, but no cricketer has been sacked for so long. Recently, this incident has really trembled the cricketing world, and it is expected that others will be alerted from such unwanted events.