বগুড়ার তিনটি বিখ্যাত জায়গাঃ মহাস্থানগড়, গোকুল মেধ ও মোহাম্মদ আলী প্যালেস

ভ্রমণ বিবরণ জুআয়রা হোসেন || 16 April 2018

উত্তরবঙ্গের একটি শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর বগুড়া। বগুড়া রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত। একে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারও বলা হয়ে থাকে। পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল বগুড়া। দই এর জন্য বেশ বিখ্যাত প্রাচীন এই শহর। উত্তরবঙ্গের প্রায় সকল শহরে বগুড়া হয়েই যেতে হয়। ঘুরে বেড়ানোর মত বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে এখানে।


বগুড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে করতোয়া নদী। বাংলার অন্যতম প্রাচীন শহর বগুড়া। বগুড়ায় রয়েছে দর্শনীয় বেশ কিছু জায়গা।

মহাস্থানগড়ঃ মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি পুরাকীর্তি। এটি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম ছিল পুন্ড্রনগর। মহাস্থানগড় একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। এই নগরী একসময় বাংলার রাজধানী ছিল। কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মৌর্য, সেন, পাল ও গুপ্ত শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। পরবর্তীতে অনেক হিন্দু রাজা এবং অন্য ধর্মের রাজারাও এই অঞ্চলে রাজত্ব করেন।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে এই শহরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাবে। ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ উদঘাটন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক মহাস্থানগড় ঘুরতে আসেন। এখানে প্রায় ৪ হাজার হাজার বছরের পুরানো স্থাপনা রয়েছে।

গোকুল মেধঃ গোকুল মেধ বগুড়া সদরের গোকুল গ্রামে অবস্থিত। মহাস্থানগড় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান। স্থানীয় জনসাধারণের কাছে এটি বেহুলা-লক্ষ্ণিন্দরের বাসর ঘর হিসেবে পরিচিত। অনেকে একে লক্ষ্ণিন্দরের মেধও বলে থাকে। এটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত অন্যতম একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এটি একটি খননকৃত প্রত্নস্থল এবং এটি স্তরে স্তরে উঁচু করে করে কুঠুরি নির্মাণ রীতিতে নির্মিত। ৭ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এখানে ছোট প্রস্তর খন্ডের সঙ্গে ষাঁড়ের প্রতিকৃতি একটি স্বর্ণ পত্র পাওয়া গিয়েছিল এবং এথেকে ধারণা করা হয় এটি শীব মন্দির ছিল। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা এবং হিউয়েন সাং তাদের ভ্রমণ কাহিনীতে একে বৌদ্ধ মঠ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়ামঃ বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে করতোয়া নদী ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে এই মিউজিয়াম। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এই মিউজিয়াম। এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নবাব বাড়িটি ১৯৯৮ সাল থেকে জাদুঘর হিসেবে চালু রয়েছে। এখানে রয়েছে নবাব পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস।

ঢাকা থেকে বগুড়া যেতে হলে সরাসরি বাসে করে যেতে পারবেন। অনলাইন টিকেট কাটতে পারবেন সহজ থেকে। বগুড়া শহরে থাকার জন্য বেশ ভাল মানের হোটেল রয়েছে।

Places to visit in Bogura: Mahasthangarh, Gokul Medh and Mohammad Ali Palace

Travel Zuaira Hossain on 16 April 2018

Bogura is a city located in Bogura District. It is in Rajshahi division. It is a major commercial hub of in the Bogura district. It is also called the gate of the north. Bogura was the capital of Pundravardhana. This city is famous for curd. There are many famous places in this city to explore.


Bogura is divided by the river Karatoya. Bogura is one of the oldest cities in Bengal. There some famous places in this city where you can visit.

Mahasthangarh: Mahasthangarh is one of the oldest monuments in Bangladesh. It is located in Shibganj upazila of Bogura. Its ancient name was Pundra Nagar.

Mahasthangarh is one of the popular tourist centers. This city was once the capital of Bengal. For centuries it was the provincial capital of Maurya, Sen, Pal and the Gupta rulers. Later, many Hindu kings and kings of other religions ruled this region.

The remnants of this city can be seen on the west bank of the Karatoya, about 11 kilometers north of Bogura city. The remnants of Mahasthangarh were unearthed in 1808. Thousands of tourists from around the country visit Mahasthangarh every year. There are about 4 thousand years old structures here.

Gokul Medh: Gokul Medh is situated in village Gokul in Bogura. It is around 1.5 km south of Mahasthangarh. Local people call it Behula-Lakshindar’s Bashor ghor. Many call it Lakshindar’s Medh too. It is one of the famous archaeological sites of Department of Archaeology. It is an excavated site and it is built on terraced cellular style of construction. It is believed that it was built between the 7th and the 12th centuries.

A letter was found with a bull portrait here. That’s why it is believed that it was the Shiva temple. Famous tourists Ibn Battuta and Hiuen Tsang mention this as the Buddhist monastery in their travelogue.

Muhammed Ali Palace Museum: This museum has built in the bank of Karatoya in Bogura. In 2016, Bangladesh Archeology Department declared it as a protected archaeology. This museum is open for visitors from 10 am to 8 pm daily. Founder of this house Mohammed Ali was the former prime minister of Pakistan. The Nawab House has been a museum since 1998. There are many things which were used by the Nawab family is reserved in the museum.

To visit these places you need to travel to Bogura. There are direct buses from Dhaka. You can purchase online tickets from shohoz. There are also many hotels in Bogura to stay.