কতটুকু সফল হয়েছে নিরপদ সড়কের জন্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন

যাপিত জীবন দীপান্বিতা সূত্রধর || 12 August 2018

আসলেই কী কোন পরিবর্তন এসেছে কিশোর আন্দোলনের পরে? বাংলাদেশ সরকার ছাত্রদের সব দাবি মেনে নিবে এই আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু আসলেই কতটুকু পরিবর্তন আসবে তার আশায় দিন গুনছে সাধারণ মানুষ- একটাই দাবি- নিরাপদ, নিরুদ্বিগ্ন সড়ক।


বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও সাধারণ মানুষ মনে করে কর্তৃপক্ষ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা পালন করছে না। গত ৩০ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলাতে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ২ কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের পর থেকে বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। স্কুল কলেজগামী ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে যাতে করে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের সহপাঠীদের মত অন্য কারো জীবন না দিতে হয়। 
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আসলেই অভাবনীয়। কোন রাজনৈতিক দল কিংবা নেতা-নেত্রী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়- নিজেদের দাবি আদায় করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে দেশের স্কুল-কলেজ গামী ছাত্রছাত্রী। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনের স্কুল কলেজের ছোট বাচ্চাগুলো একটা সময়ে সড়কে চালকদের লাইসেন্স চেক করতে শুরু করে। তাদের চেকিং থেকে মন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক কেউ বাদ পড়েনি। এর মধ্যে যারা লাইসেন্স দেখাতে পারেন নি বা যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে মামলা দিতে বাধ্য করেছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি ট্রাফিক সার্জেন্টের লাইসেন্স না থাকায় নিজেই নিজের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য হয়েছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে, আইন সবার জন্য সমান। কুর্মিটোলা ও উত্তরা এলাকায় শুরু হওয়া এই আন্দোলনে যোগ দেয় পুরো রাজধানীর ছাত্রছাত্রীরা পরবর্তীতে তাদের এই আন্দোলনে সামিল হয় বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিবিসি নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ টিয়ার শেল আর রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য যদিও পরবর্তীতে পুলিশ তা অস্বীকার করে। বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত সংবাদ সংস্থা এএফপি সুত্র মতে, প্রায় ১০০ এর বেশি স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী আহত হয় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে। 
অন্নুনত অবকাঠামো, সড়ক মন্ত্রণালয় আর প্রশাসনের দুর্নীতি, অদক্ষ চালক, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি সাথে মানুষের ট্রাফিক আইন না মানা- সব মিলিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর প্রায় ৪০০০ মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশ নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির তথ্য অনুসারে গত বছর ৪০০০ এর বেশি পথচারী মারা যায়। আর এই পরিস্থিতি পরিবর্তন আনাই ছিল কিশোর আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। 
এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের রাজপথের নিয়ন্ত্রণ সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। আর শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী আর সাধারণ মানুষের তোপের মুখে সরকার সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করেছে। সংশোধিত সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় চালকদের সাজা তিন বছর থেকে পাঁচ বছর করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হলে বা হত্যার উদ্দেশ্য হলে মৃত্যুদণ্ড বলে বিবেচিত হতে পারে, এমন বিধান রয়েছে। 
কিন্তু আসলেই কী কোন পরিবর্তন এসেছে কিশোর আন্দোলনের পরে? হ্যাঁ, কিছুটা হলেও পরিবর্তন এসেছে আমাদের নিয়মহীন ঢাকা শহরে। ইমার্জেন্সি লেন সহ সু–শৃঙ্খল গাড়ি চলাচল ও যে ঢাকার রাস্তায় করা সম্ভব তা বাস্তবে দেখিয়ে দিয়েছে এই শিশুকিশোরের দল। আন্দোলনের পরে সব ধরণের যানবাহনের লাইসেন্স চেক থেকে শুরু করে পুলিশ। সম্প্রতি ঢাকাতে প্রায় ৮০% এর উপরে মানুষ হেলমেট ব্যবহার করছে কারণ না করলেই ধরা হচ্ছে জরিমানা। বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ আর ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে নিয়োগ করা হয়েছে স্কাউট সদস্য যারা রাত দিন অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে পথচারীদের ঠিকমত পথচলার নির্দেশনা দেয়ার জন্য। 
গাড়ির ও পথচারীদের জন্য নিরাপদ সড়ক একদিন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা, সর্বস্তরের দুর্নীতি দমন, সুষ্ঠভাবে সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সব নীতিমালা মেনে চলা- এইসব একসাথে চললে বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশ সরকার ছাত্রদের সব দাবি মেনে নিবে এই আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু আসলেই কতটুকু পরিবর্তন আসবে তার আশায় দিন গুনছে সাধারণ মানুষ- একটাই দাবি- নিরাপদ, নিরুদ্বিগ্ন সড়ক। 

The Youth Movement for safe roads and safety of pedestrians: What is next

Lifestyle Dipanwita Sutradhar on 12 August 2018

What really happened after the teenage movement? The young people show that proper maintenance of vehicles including the emergency lane is possible in Dhaka city. The government of Bangladesh has promised to accept all the demands of the students. But what is next?


Road accidents, safe road- these are the most discussed topic in the very recent time in Bangladesh.  
After the horrific death of two college students in Kurmitola on 30 July and the situation has become quite fierce later the incident. Young boys and girls of School and College are protesting in the streets so that they do not have to die like their classmates do in road accidents. These strong steps of students are really unlikely. The peaceful movement for seeking secure road by the kids was not influenced by any political party. School-college going students along with their parents and general people participated spontaneously to claim their demands. In this nonviolent movement, youngsters of School and College began to check the drivers' license on the road at a time. They did not even a spare minister, law enforcers, and journalists from their checking.
People who were unable to show the license or whose licenses were expired and they forced police to file a lawsuit against them. They showed that the law is equal to everyone. The movement started in Kurmitola and Uttara areas after the students of the whole of the capital joined them in this movement, then the top local private universities of Bangladesh. According to the BBC News report, in the midst of the student movement, Bangladesh police tried to control the situation by throwing tear shells and rubber bullets, yet later police denied it. According to AFP, one of the world's leading news agencies, sources- more than 100 school-college students were injured in clashes with police.
Derisory infrastructure, corrupted road ministry and administration, inefficient drivers, and unlawful vehicles, do not adhere to the traffic law - in all, thousands of people die in road accidents every year. According to World Bank data, about 4,000 people die every year in road accidents in Bangladesh. More than 4000 pedestrians died last year according to the National Committee for the Protection of Bangladesh Navy, Roads and Railways. And the main objective of the teenage movement was to change this situation.
After a weeklong movement of teenage students- the pressure on the government was increasing. In the end, the Government has amended the Road Transport Act in the face of student and general people. According to the Road Transport Act, the driver of the road accident has been sentenced to three years from five years. There is a provision that can be considered as a death penalty if an intentional accident or if intended for murder.
But then again what really happened after the teenage movement? Yes, some changes have come in our Dhaka city. The young people show that proper maintenance of vehicles including the emergency lane is possible in Dhaka city. After the teen movement, the police start to check the license for all types of vehicles started. Recently, over 80% of people in Dhaka are using helmets because fines are charged if there are no helmets with a biker and their partner. Additionally, Scout members who have been working day and night on various important and busy roads continuously to guide pedestrians on the right track.
It is not possible to build safe roads for pedestrians overnight. It requires the help of the administration, sincere cooperation, suppression of all types of corruption, the implementation of the Road Transport Act, and above all, to follow the policies of the common people - if these are going together, the rate of road accidents in Bangladesh is expected to decrease gradually. The government of Bangladesh has promised to accept all the demands of the students. All the people are waiting for the real change and we all just want a safe and harmless road.