ফেসবুক, ইউটিউব সহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি আরোপ

প্রযুক্তি ভাবনা দীপান্বিতা সূত্রধর || 24 October 2018

ফেসবুক, ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত কোন কন্টেন্ট যদি আপত্তিকর বা ক্ষতিকর মনে হয় তবে চাইলেই সেগুলো প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বাংলাদেশ সরকার। নতুন প্রযুক্তি আর কঠোর আইনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নজর রাখবে সরকার।


সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কোন ইস্যু অথবা বিতর্কমূলক কোন বিষয় নিয়ে ফেসবুক কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা থেকে বিরত থাকছেন বা থাকতে বলছেন অনেকে। কেননা, ফেসবুক, ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত কোন কন্টেন্ট যদি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর মনে হয় তবে চাইলেই সেগুলো প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার সংবাদ মাধ্যমে জানান যে বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন ধরণের নতুন প্রযুক্তি আনতে চলেছে সরকার। নতুন প্রযুক্তিগুলো আসলে কি হবে তা জানা না গেলেও- হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এই ধরণের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
গত ২০ অক্টোবর একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত 'নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় মোস্তফা জব্বার প্রথম বারের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ‘মনিটরিং প্রযুক্তি’ ব্যবহৃত হবে তা উল্লেখ্য করেন। বিশ্বের অনেক দেশই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলের মত বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে ডিজিটাল অপরাধ রোধ করতে পারে। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া গবেষক অথবা বিশেষজ্ঞ দিয়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ফেসবুক কিংবা ইউটিউবের কনটেন্টের ওপর নজর রাখতে পারবে। 
ফেসবুক, গুগল কিংবা ইউটিউব- এইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এইসব প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দেশের সামাজিক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডে নির্মিত। আমাদের দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ আর সাংস্কৃতিক চেতনা কিছুটা ভিন্ন হওয়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি দরকার বলে মনে করেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। তিনি আরও মনে করেন যে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা নিরাপদ রাখার জন্যই এই ধরণের ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
ফেসবুক, ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কন্টেন্ট নজরে রাখার জন্য রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। যারা মানুষের বা সরকারের হয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে নজরদারি করতে পারবে। যদি ক্ষতিকর কোন শব্দ বা মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে চলে যায় তখন এই কোম্পানিগুলো সে বিষয়ে দ্রুত জানাতে সক্ষম। সরকার কিংবা প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এখন জানা যায়নি যে কি ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা। প্রাথমিক ভাবে বিভিন্ন সফটওয়্যার দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব। ‘জিরোফক্স’ এর মত কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডিন এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে তথ্য নিরাপত্তা এবং প্রতারণা থেকে ইউজারদের সহায়তা করতে পারে। 
এই ধরণের সফটওয়্যারে নির্দিষ্ট কোন শব্দ নির্বাচন করে দেয়া হলে অন্য কেউ যদি সেই শব্দ প্রকাশ করে তাহলে  সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারটি বিস্তারিত তথ্যসহ ইউজারকে একটা ইমেইল পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শব্দের সাথে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নাম এসেছে কিনা এবং সেটা ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক কিনা এ ধরণের কাজগুলো সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা যায়। 
বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছরই ফেসবুকের কাছে বাংলাদেশি ফেসবুক ইউজারদের তালিকা দিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে থাকে। এর সাথে যদি বিশেষ সফটওয়্যার কিংবা শক্তিশালী সার্ভার ব্যবহার করে সবার নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করে তবে আসলেই মানুষের মতামত প্রকাশের বাঁধার কারণ হতে পারে এই ধরণের উদ্যোগ। প্রত্যেকটা মানুষেরই বিভিন্ন ধরণের আদর্শ ও মতাদর্শ রয়েছে কিন্তু তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলেই যদি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয় তবে তা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা বলে মনে করেন অনেকে। অনাকাঙ্ক্ষিত এইধরনের ঘটনা এড়াতে বিতর্কমূলক কোন বিষয় সামাজিক মাধ্যমে প্রচার না করাই ভাল বলে মনে করেন সোশাল মিডিয়া গবেষকরা। 

Bangladesh Government concoct surveillance over Facebook and other social media

Tech Dipanwita Sutradhar on 24 October 2018

If any content promoted in social media like Facebook, YouTube, is objectionable or harmful to the Bangladesh government, they will take the necessary measures to assure cyber-security under strict commandment.


In recent times, people in Bangladesh mostly avoid discussions about any political issue or controversial issues in Facebook or any other social media. If any content promoted in social media like Facebook, YouTube, is objectionable or harmful to the Bangladesh government, they will take the necessary measures to assure cyber security under strict commandment. Bangladesh Post, Telecommunication and Information Technology Minister Mustafa Jabbar informed that the news that the government is going to bring different types of new technologies for the cyber security interests of Bangladesh. It is not sure that what kind of technologies are going to be used. 
On October 20, 'Ghatak Dalal Nirmul Committee' organized a discussion session titled 'Role of social media in the election'. In that session Mustafa Jabbar mentioned about the 'monitoring technology' for the first time. Various countries in the world ask for information from giant tech companies such as Facebook, YouTube, and Google for their safety purpose. The government of Bangladesh can also prevent digital crimes from seeking information from social media. Alternatively, government may appoint social media researchers or experts who can monitor the contents on Facebook, YouTube or on other known social network sites.
Facebook, Twitter or YouTube - these social media are United States-based organization. These organizations are built in their country's social community standards. The telecommunications and IT minister thinks that our country's religious values and cultural consciousness are somewhat different and hence it requires social communication surveillance. He also thinks that the need for such a system which will help to keep the Digital Bangladesh safe as the government of Bangladesh committed to its people. 
There are many organizations which can monitor or track the content of social media such as Facebook, YouTube for any business organization or for a government. If any harmful words or comments go through social media, these companies are able to make it erase. Presently, it is possible to provide cyber security to social media with basic software. There are some websites like 'ZeroFox' that can help users from fraud and detrimental actions to social networks like Facebook, Twitter, LinkedIn or YouTube. If a particular word is selected in this type of software, it will send an email to the user with detailed information as well as it will prevent someone to share that. Besides, the specific name of the person with the corresponding word has come and whether it is positive or negative, such actions can be done through that software.
The government of Bangladesh seeks details information from the Facebook authorities of Bangladeshi Facebook users every year. If government takes strict digital law and act upon that by using a special software or a powerful server, this kind of initiative may actually be the reason for hindrance of public opinion. Different people has different types of thoughts, ideologies and political views. Yet, if they face unnecessary interrogation just because of expressing it through social media, it seems to undermine freedom of expression. Social media researchers believe that it is better not to disseminate a controversial topic through social media to avoid these unwanted incidents.