সাইবার অপরাধ ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম উদ্ভাবন ব্লকচেইন প্রযুক্তি

প্রযুক্তি ভাবনা দীপান্বিতা সূত্রধর || 29 December 2018

২০০৯ সালে প্রথমবারের মত যখন বিটকয়েন সম্পর্কে প্রকাশিত হয় তারপর থেকে ব্লকচেইন প্রযুক্তির অনেক পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে বিটকয়েন শব্দটির সাথে পরিচিত হলেও ব্লকচেইনের ধারণাটি মানুষের কাছে কিছুটা নতুন বললেই চলে।


২০০৯ সালে প্রথমবারের মত যখন বিটকয়েন সম্পর্কে প্রকাশিত হয় তারপর থেকে ব্লকচেইন প্রযুক্তির অনেক পরিবর্তন এসেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে বিটকয়েন শব্দটির সাথে পরিচিত হলেও ব্লকচেইনের ধারণাটি মানুষের কাছে কিছুটা নতুন বললেই চলে। ‘সাতোশী নাকামতো’ ছদ্মনামের জাপান ভিত্তিক এক বা একাধিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ প্রযুক্তির উদ্ভাবক। 
প্রযুক্তি বোদ্ধাদের মতে ব্লকচেইনকে আধুনিক কালের এক অভিনব উদ্ভাবন। সহজ ভাষায় বললে ব্লকচেইন হচ্ছে তথ্য সংরক্ষণ করার একটি নিরাপদ এবং উন্মুক্ত পদ্ধতি। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যকে আলাদা আলাদা ব্লকে একটির পর একটি চেইনে সংরক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তিতে সবার জন্য একটা বন্টন বা তথ্য শেয়ার করা যায় এমন একটা ডাটাবেজ বানানো হয়। ব্লকচেইন অনেকটা ডিজিটাল খতিয়ান বা লেজার হিসাবে কাজ করে। এর প্রযুক্তির একটা সুবিধা হল এখান থেকে কোন তথ্য হারিয়ে না ডিলিট হয়ে যায় না। প্রত্যেক ব্লকে যে ধরণের তথ্য থাকে তা সবাই এপ্রুভ বা যাচাই করলেই ব্লকে স্থান পায়। তাই ব্লকচেইন প্রযুক্তি নির্ভুল আর সুরক্ষিত সেবা দিবে বলে মনে করেন প্রযুক্তিবিদগণ। 
ব্লকচেইন প্রযুক্তির যে ডেটাবেইস থাকে তা বণ্টিত ও সর্বজনীন। অর্থাৎ এটা কোনো একটি জায়গায় অবস্থান করে না বা তথ্য একটা জায়গায় সংরক্ষণ করা হয় না। এতে যে তথ্য সংরক্ষিত থাকে তা সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য এবং সহজেই যাচাইযোগ্য। এই প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রতি দশ মিনিটে পর পর যে কোন ধরণের তথ্যকে যাচাই করে। অনেকগুলো একই ধরণের তথ্য মিলে এক একটি ব্লক গঠিত হয়। আর তথ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে ব্লকগুলো একটির পর একটি বসে চেইনের মত সৃষ্টি হয়। যেকোন ব্লকের তথ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে পরের ব্লক সৃষ্টি হতে পারে না। ব্লকচেইন প্রযুক্তি এভাবে কাজ করে বলে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই প্রযুক্তিতে কোনো একটি অংশের তথ্য পরিবর্তন করে ডেটাবেইস-এর অখণ্ডতা বা বিশুদ্ধতা নষ্ট করা যায় না। তাই ব্লকচেইন প্রযুক্তি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকেও মুক্ত। 
বিটকয়েন নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে চালুর জন্য ব্লকচেইন প্রযুক্তি শুরু হলেও এই প্রযুক্তি এখন ব্যবসায়িক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। ২০১৮ সালে এই প্রযুক্তি নিয়ে অনেক তোলপাড় পর প্রযুক্তিবিদগণ ধারণা করেন যে আসন্ন বছরগুলোতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি বেশ কিছু জায়গায় প্রাধান্য পাবে। এশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তাদের ব্যাকিং ও বৈদেশিক মুদ্রা আদান প্রদানের জন্য ব্লকচেইন প্রযুক্তি এর উপর আস্থা রাখছে। ইতোমধ্যে, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক ব্যাংক ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে এবং এর কল্যাণে বৈদেশিক মুদ্রা আদান প্রদানের যে খরচ তা প্রায় ৩০% কমে এসেছে। সচরাচর, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে সবাইকেই কোন না কোন তৃতীয় পক্ষের সাহায্য নিতে হয়, তা হতে পারে ব্যাংক কিংবা মানি ট্রান্সফারিং এজেন্সি। এইসব কারণে লেনদেন যেরকম শ্লথগতিতে হয় তেমনি আমাদের কিছু অতিরিক্ত টাকাও পরিশোধ করতে হয়। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রস বর্ডার পেমেন্টের জন্য এমন একটি সিস্টেম বানানো সম্ভব যা দ্বারা বিশ্ববাজারে লেনদেন হবে অনেক সহজ, সাশ্রয়ী আর কম সময় সাপেক্ষ। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট কন্ট্রাক্ট নামে এক সিস্টেম চালু করা সম্ভব। এই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদন করতে পারে আর এইভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্মার্ট প্রপার্টি বলা হয়। এছাড়াও, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার সিকিউরিটি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। বাংলদেশও পিছিয়ে নেই ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায়। রাইড শেয়ারিং সেবা, আর্থিক লেনদেন, চিকিৎসাক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যাংকিং সিস্টেম পর্যন্ত ব্লকচেইন প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য অনেক সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। ভারত সহ এশিয়ার অনেক দেশ এই প্রযুক্তির এ ক্ষেত্রটি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। দেশি বিদেশি অনেক উদ্যোক্তা এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে উৎসুক। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হলে এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় আরও বিনিয়োগ বাড়ালে এর জনপ্রিয়তা বাড়বে সাথে সুরক্ষিত তথ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। 

Blockchain Technology can be one of the finest tech to prevent cyber crime

Tech Dipanwita Sutradhar on 29 December 2018

The concept of cryptocurrency Bitcoin had been known since 2009 and that’s the first time people started to have an idea about blockchain technology. Almost every tech-geek including general people know about bitcoin but the blockchain technology is quite unfamiliar to them.


The concept of cryptocurrency Bitcoin had been known since 2009 and that’s the first time people started to have an idea about blockchain technology. Almost every tech-geek including general people know about bitcoin but the blockchain technology is quite unfamiliar to them. A Japan-based group named 'Satoshi Nakamoto' is the inventor of this blockchain technology. 
Technology experts believe that blockchain is a ground-breaking innovation of modern times. Simply, blockchain is a safe and open way of saving and sharing information. In a blockchain technology-based system, data is stored in separate blocks sequentially which forms an uninterrupted chain. This technology is designed to create a database in which all of the information can be approved and shared by everyone in that circle. Blockchain works as a digital ledger or list. One of the advantages of its technology is that no data can be lost or deleted from here. The information contained in each block can be found in the block if it is either approved or verified by the previous block. So technicians think that Blockchain technology will provide accurate and secured service.
The database that blockchain technology has, is distributed and universal. That means it does not stay in a single place or the information is not stored in one place. The information is stored in plus it is accessible by everyone and verified. Additionally, any kind of information is automatically verified by every ten minutes under this technology. One block is formed with similar kind of data and depending on the majority of data, the blocks are created one after another. The next block cannot be created if any block data is not verified by the major users. This is how blockchain technology works and maintains transparency. Due to the change in the information of a part of this technology, the integrity of the database cannot be lost. Consequently, blockchain technology is also almost free from the risk of hacking.
Although the blockchain technology started to maintain cryptocurrencies market named bitcoin, this technology can now be used in business and other fields. After many hearings of this technology in 2018, technicians believe that in the coming years, blockchain technology will prevail in a large number of the field. Many countries in Asia and the Middle East are reliant on the blockchain technology for their backing and exchange of foreign currency. Meanwhile, many banks in Japan and South Korea have started using blockchain technology, and for this reason, the cost of foreign currency exchanges decreased by almost 30%. Generally, in the case of transactions at the international level, everyone has to take any help from the third party, whether it is a bank or a money transfer agency. It is possible to create a system for cross-border payment using blockchain technology that will make transactions in the world market much easier, affordable and less time-consuming. It is possible to introduce a system called Smart Contract using blockchain technology. This system can automatically execute a business agreement and the property obtained by the system is called a smart property. Furthermore, cybersecurity and cryptocurrencies systems will be improved using blockchain technology.
Bangladesh is not behind in the study of blockchain technology. Blockchain technology can create many possibilities for Bangladesh, from ride-sharing services, financial transactions, and medical to a banking system. Many countries in Asia including India have accepted this technology. Many foreign entrepreneurs are eager to work with blockchain technology. If the technology is applied to the government and non-government level and increase investment in research with blockchain technology will increase its popularity and secure information will be ensured.